
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তিনি বিনিয়োগকারীদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাবেন। নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ যে কতটা জরুরি, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছেন।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস বয়সী এই ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। তিনি বলেন, আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে আমরা স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের শক্তি ও সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের লক্ষ্য একটি বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এই রূপান্তরের অংশীদার হিসেবেই মার্কিন ব্যবসাগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা ভালো ধারণা পেয়েছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অধিকতর পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :