Facebook Twitter Instagram YouTube

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এআই যেভাবে হয়ে উঠছে নতুন চোখ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ /
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এআই যেভাবে হয়ে উঠছে নতুন চোখ

দুই বছর বয়সী এক শিশুর মা, যিনি নিজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তিনি এক গভীর অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন। শিশুটি যেহেতু বুঝতে শিখেছে যে মা তাকে দেখতে পান না, তাই সে অনেক সময় চুপচাপ ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকতো। সেই মাকে এআইভিত্তিক একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যাপটি স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে চারপাশের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে অডিওর মাধ্যমে জানিয়ে দেয় শিশুটি কোথায় আছে বা কী করছে। কয়েক সপ্তাহ পর সেই মায়ের কণ্ঠে আর অসহায়ত্ব ছিল না, বরং ছিল স্বস্তি ও আনন্দ। প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং একজন মায়ের উদ্বেগ কমিয়ে তাঁর জীবনকে সহজ করে দিয়েছে।

ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি বিশেষজ্ঞ ভাস্কর ভট্টাচার্য নিজেও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, একসময় কোনো বইয়ের নাম, ব্যাংকের কাগজ বা অফিসের নথিপত্র বোঝার জন্য তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু আধুনিক এআই প্রযুক্তি সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্র পড়েন, দেশের খবর ও বিশ্বের খবর জানেন, মতামত ও বিশ্লেষণ পড়েন। এমনকি অফিসের কাজেও তিনি এখন আর অন্যের ওপর নির্ভরশীল নন।

পোশাক নির্বাচনের মতো ব্যক্তিগত বিষয়েও ফোন তাঁকে রঙের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। ফোন তাঁকে বলে দেয়, 'এটি নীল রঙের শার্ট' এবং 'এটির সঙ্গে কালো প্যান্ট মানাবে'। ভাস্কর ভট্টাচার্যের মতে, নিজের পোশাক নিজে নির্বাচন করার স্বাধীনতা এবং নিজেকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করার আনন্দ কোনো ছোট বিষয় নয়। এছাড়া তিনি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে লেখালেখি করেন, যা তাঁর কাজের গতি ও দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভাস্কর ভট্টাচার্যের মতে, এআই কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়; এটি তথ্যের কাছে পৌঁছানোর এক অবারিত সুযোগ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার উপায়। হাজারো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ আজ এআই ব্যবহার করে বই পড়ছেন, চাকরির আবেদন করছেন, অনলাইন ব্যাংকিং করছেন, ব্যবসা পরিচালনা করছেন, এমনকি প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে শহরের রাস্তায় চলাচলের সাহস পাচ্ছেন। যদিও এখনো অনেক ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি এবং ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি নিশ্চিত করার জন্য আরও অনেক কাজ বাকি, তবুও তিনি আশাবাদী। প্রযুক্তির এই বিবর্তন এখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন বুঝতে পারছে এবং তাঁদের সঙ্গে পথ চলছে। তাই তিনি এআই-কে কেবল প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা দিয়ে নয়, বরং নিজের 'চোখ' হিসেবেই দেখেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo