
ইতিহাস কখনো পুরোনো হয় না, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। সময় গড়িয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু পুরনো ক্ষত ও স্মৃতি আজও প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফাইনালের মঞ্চে ওঠার এই লড়াই কেবল ফুটবলের মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় ইতিহাসের আবেগ।
লিওনেল মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ট্রফি জয়ের সব অর্জন থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ তার হয়নি। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেসির জন্য এই ম্যাচটি এক বড় চ্যালেঞ্জ। নীল-সাদা জার্সিতে মেসির প্রতিটি ম্যাচই এখন বিদায়ের সুরের মতো, আর এই যাত্রায় ইংল্যান্ড এক বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাস ঘাঁটলে ফুটবলের চেয়েও বেশি চোখে পড়ে প্রতিশোধ, বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ। ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলি কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনের লাল কার্ড ও মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি দুই দেশের শত্রুতার বীজ বপন করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে, যা ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধের প্রতীক। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং ২০০২ সালে তার পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডের জয়—সবই এই দ্বৈরথকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে এই দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি। ম্যারাডোনা ও বেকহ্যামের সেই সময় পার হয়ে গেছে। এবার সেই অসমাপ্ত গল্পে প্রবেশ করছেন লিওনেল মেসি। তবে আজকের ইংল্যান্ড গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে সম্পূর্ণ ভিন্ন। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামদের নতুন প্রজন্মের কাছে পুরনো বিতর্কগুলো কেবল আর্কাইভের অংশ। তারা নিজেদের ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। মাঠের ২২ জন খেলোয়াড় ছাড়াও গ্যালারি ও বাতাসে ভাসবে রাত্তিন, ম্যারাডোনা, শিল্টন ও বেকহ্যামের ছায়া। বাঁশি বাজবে বর্তমানের মাঠে, কিন্তু খেলা হবে ইতিহাসের আঙিনায়।
আপনার মতামত লিখুন :