
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে নবজাতকসহ যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন মো. আলমগীর (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩০) এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তান। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আলমগীর পেশায় একজন পান-সিগারেট বিক্রেতা ছিলেন।
এর আগে, গত শুক্রবার গভীর রাতে জামগড়ার মধ্য এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত নাজমার বোন শাপলা জানান, কাজের সন্ধানে তারা ময়নমনসিংহ থেকে সাভারে এসেছিলেন। দুই বোনই একই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, সিআইডির পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা মোটিভ এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সহকারী সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :