Facebook Twitter Instagram YouTube

খেলাপি ঋণ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে নতুন নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ /
খেলাপি ঋণ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে নতুন নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণ আদায়ের গতি বাড়াতে এবং আদালতে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে গতকাল এ সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আদায় সহজ করা এবং আদালতে মামলার চাপ কমানো।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এডিআর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত হতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে এবং হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেউলিয়া বা ঋণখেলাপি হলে তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া প্রতারণা, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ বা মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকলে তা তালিকাভুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে তিন বছরের ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।

মধ্যস্থতাকারীদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্যানেলে থাকা ব্যক্তিদের আইন, ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ বা বিচারিক কাজে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। স্বার্থের সংঘাত, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা নৈতিক স্খলনের কারণে বরখাস্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলো অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিটি প্যানেলে কমপক্ষে পাঁচজন মধ্যস্থতাকারী থাকতে হবে, যার মধ্যে একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং একজন হিসাববিদ থাকা বাধ্যতামূলক। প্যানেলে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রাখা যাবে না এবং নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে।

তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০ নম্বরের একটি স্কোরিং ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করবে, যেখানে উত্তীর্ণ হতে অন্তত ৭০ নম্বর পেতে হবে। মূল্যায়নে বিধিবদ্ধ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় ১০, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় ১৫, মধ্যস্থতাকারী প্যানেল ও মধ্যস্থতাকারীদের যোগ্যতায় ২০ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও সুবিধায় ২০ নম্বর রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক বিষয়াবলি ৫, তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ৫, স্বার্থের সংঘাত, গোপনীয়তা ও নৈতিকতা ব্যবস্থায় ১০, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নে ৫ এবং অউজ পরিচালনার অভিজ্ঞতায় ১০ নম্বর রয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা মধ্যস্থতা কক্ষ, ইলেকট্রনিক নথি সংরক্ষণের নিরাপত্তা এবং অনলাইন শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো থাকা আবশ্যক।

এডিআর কার্যক্রমের গোপনীয়তা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং প্রচলিত আইন বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না। তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক তালিকাভুক্তি বাতিল বা জরিমানা করতে পারবে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর বিরোধ নিষ্পত্তির হিসাবসহ বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সেবাগ্রহীতারা কোনো অসন্তোষের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন, যার ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy