Facebook Twitter Instagram YouTube

লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারের চা-শিল্পে ধস, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ /
লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারের চা-শিল্পে ধস, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী চা-শিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে বাগানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা, যার প্রভাব পড়ছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিকের ওপর।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলো দিনে ও রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে। চা পাতা তোলার ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ বা উৎপাদন শুরু করার নিয়ম থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে এখন সময় লাগছে ৭০ থেকে ৮০ ঘণ্টা। বাগানগুলোতে জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও তা দিয়ে পুরো ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো তেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রতিটি বাগানে লাখ লাখ টাকার কাঁচা চা পাতা নষ্ট হচ্ছে এবং কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতিও বিকল হয়ে পড়ছে।

বাগান ঘুরে দেখা গেছে, দেশের ১৭৩টি চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯৩টি বাগান। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসব বাগানের সোনালি স্বপ্ন এখন অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে। পাত্রখলা চা বাগানের ফ্যাক্টরি ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ ফারুকী সিয়াম এবং অন্যান্য কারখানার ম্যানেজার বাবু জামাল উদ্দিন জানান, ড্রায়ার মেশিনসহ দামি দামি যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পাতা চয়নকারীরাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। মিস্ত্রি রুস্তুম হোসেন, ইলেকট্রিশিয়ান ধীরেন সিংহ, পাতা সর্দার মিলন ও রোদন ভৌমিকও একই উদ্বেগের কথা জানান। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি স্বপন কুর্মি এবং সর্দার সুপারভাইজার হারুন উর রশিদ জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নারী শ্রমিকরা পাতা তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। নিলামে ভালো দাম না পেলে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি, বোনাস ও রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত।

চা বাগান সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানিমুখী ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প হিসেবে চা-শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, আবাসিক গ্রাহকদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনেও তারা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাচ্ছেন না। বাগানগুলোর জন্য আলাদা ফিডারের দাবি জানানো হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ তা বাস্তবায়ন করেনি। এদিকে, শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএমএন মুনির (সৈয়দ মুনির) জানান, সরকার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য নিলামে চায়ের সর্বনিম্ন দাম প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা নির্ধারণ করলেও মান ধরে রাখতে না পারায় অনেক চা অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে এবং প্রকৃত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ডানকান ব্রাদার্সের কয়েকটি বাগান ছাড়া অন্য বাগানগুলোর জন্য আলাদা ফিডার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে আলাদা ফিডার নির্মাণের আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh