
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই চড়া। নিম্ন আয়ের মানুষ নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারলেও স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই নীরব। সংকোচের কারণে অনেকেই তাদের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারছেন না।
বাজারে ডিমের দাম এখনো কমেনি। গত এক মাস ধরে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এই দাম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই; ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে আবদুল্লাহপুর আড়তে বড় রুই ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ইলিশ ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চিনির বাজারেও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে। এছাড়া প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও ছিল ৫৫ টাকা। খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হলেও খোলা সয়াবিন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কাঁচামরিচ ও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ মাহমুদ জানান, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে দাম কমেছে। বর্তমানে পাইকারিতে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ আগে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যথাযথ মনিটরিং না থাকায় বিভিন্ন স্থানে একই পণ্য ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চললেও নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। খিলক্ষেতের ক্রেতা জেসমিন আরা জানান, নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বসুন্ধরা বাজারে আসা নাঈম বলেন, সরকার বদল হলেও দ্রব্যমূল্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজার সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মধ্যবিত্তের জন্য আগামী সময়টা আরও চ্যালেঞ্জিং হবে।
আপনার মতামত লিখুন :