
কে-ড্রামায় দেখা রোমান্টিক গলি, প্রিয় নায়িকার ব্যবহৃত লিপস্টিক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা স্পাইসি রাইস কেক খাওয়ার দৃশ্য এখন আর কেবল পর্দার গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে জেন-জি এবং মিলেনিয়াল পর্যটকদের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল এখন তাদের স্বপ্নের লাইফস্টাইল বাস্তবায়নের এক জীবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইউএসভিত্তিক ভ্রমণ মিডিয়া আউটলেট ট্র্যাজি ট্রাভেলের ‘২০২৬ দ্য ট্র্যাজিস’ অ্যাওয়ার্ডে সিউল টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের সেরা শহরের মর্যাদা পেয়েছে। বছরে গড়ে ২ লাখ ১০ হাজার ডলার আয় করা তরুণ পেশাদারদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে সিউল এখন ‘হল অব ফেম’-এ জায়গা করে নিয়েছে এবং বিশেষ ‘কুইন্ট স্ট্যাটাস’ অর্জন করেছে। এথেন্স, লন্ডন, হংকং ও ডাবলিনের মতো শহরগুলোকে পেছনে ফেলে এই সাফল্য পেয়েছে কোরিয়ার রাজধানী।
বর্তমান ডিজিটাল প্রজন্মের পর্যটকেরা এখন আর কেবল ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ বা জাদুঘরে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা বরং সাধারণ কোরীয়দের দৈনন্দিন জীবনের আসল রূপ দেখতে ‘লাইফস্টাইল ট্যুরিজম’-এ আগ্রহী। কে-ফ্যাশন ও বিউটি ট্রেন্ডের খোঁজে তরুণরা সংসু-দংয়ের মতো হাই-ফ্যাশন ও পপ-আপ শপে ভিড় করছেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক গোয়াংজাং মার্কেটে গিয়ে নুডলস, স্যুপ, রামেন কিংবা গরম-গরম মুগ ডালের প্যানকেক ও টপোক্কি খাওয়ার মাধ্যমে তারা কে-ড্রামার জনপ্রিয় দৃশ্যগুলোর অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন।
সিউল এআই ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত এক বছরে ডংদেমুন ডিজাইন প্লাজায় বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ১২ শতাংশ এবং গোয়াংজাং মার্কেটে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে সংসু-দংয়ে শপিং শেষে সহজেই আছাসান বা গোয়ানাকসান পর্বতের পাদদেশে পৌঁছে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা। গত বছরের তুলনায় আছাসান পর্বতের ট্রেইলে বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত বেড়েছে ১২ শতাংশ।
নিরাপদ পরিবেশ, স্মার্ট পরিকাঠামো এবং সহজলভ্য গণপরিবহনের কারণে সিউল একা ভ্রমণকারী তরুণীদের কাছেও অন্যতম নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। এর ফলে কোরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত এপ্রিলে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি পর্যটক সিউলে কার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে রেকর্ড ১ দশমিক ১৫৩ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন ব্যয় করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে ৩১৭টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সিউল এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্যবসায়িক ভ্রমণের শক্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
তরুণ পর্যটকদের এই আকর্ষণ ধরে রাখতে সিউল মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট ও সিউল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন এখন খাদ্য, শপিং ও প্রকৃতির সমন্বয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতামূলক ট্যুরিজম প্যাকেজ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কে-পপ, কে-ড্রামা ও আধুনিক নগর-সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সিউল আজ সত্যি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক স্বপ্নপুরী।
আপনার মতামত লিখুন :