Facebook Twitter Instagram YouTube

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্কের ঘোষণা কানাডার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ /
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্কের ঘোষণা কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ওয়াশিংটন কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই অটোয়া এই ‘ডলারের বদলে ডলার’ নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার রাতের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। তিনি অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন এনেছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এই আচরণের কারণে যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং কানাডীয় আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত জুলাই থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৯ আগস্টের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে সেই শুল্ক স্থগিত করে বলেছিলেন, দুই দেশ একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।

কানাডার আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সম্মত হওয়া শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কানাডা। তিনি দাবি করেন, কানাডাকে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণেই এই সতর্ক ভারসাম্য ভেস্তে গেছে।

জানা গেছে, দুই দেশের আলোচকরা এমন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন, যেখানে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা ছিল। এর বিনিময়ে কানাডার প্রদেশগুলোর দোকানে আবার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি মদ রাখার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন কার্নি।

গত বছরের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা ওলটপালট হয়ে যায়। এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট নামক মহামন্দা যুগের একটি আইনের আওতায় কানাডার ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন ট্রাম্প। এই শুল্ক ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। পাশাপাশি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগের শুল্কও বহাল থাকবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তিনি বলেন, শুল্কের জবাব শুল্ক দিয়ে এবং ডলারের বিপরীতে ডলার দিয়েই দিতে হবে। গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ মার্কিন মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন।

এদিকে সম্প্রতি অ্যাবাকাস ডেটার এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৬ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা জবাব দেওয়াকে সমর্থন করেন। আর ৩০ শতাংশ নাগরিক চান কার্নি সরকার আলোচনা চালিয়ে যাক। তবে পাল্টা শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ইতিমধ্যেই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh