Facebook Twitter Instagram YouTube

ইঁদুর নির্মূলের পর মিডওয়ে দ্বীপে বনিন পেট্রেলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ /
ইঁদুর নির্মূলের পর মিডওয়ে দ্বীপে বনিন পেট্রেলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে অ্যাটলে একসময় বনিন পেট্রেল নামের সামুদ্রিক পাখির অস্তিত্ব চরম সংকটের মুখে পড়েছিল। দ্বীপটিতে আক্রমণাত্মক কালো ইঁদুরের বিস্তার ঘটলে পাখিগুলোর বাসা, ডিম ও ছানা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হতে থাকে। ইঁদুরের উপদ্রবের কারণে একপর্যায়ে দ্বীপটিতে এই পাখির প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা ৫ হাজারের নিচে নেমে আসে। অথচ মাত্র ৪০ বছর আগেও মিডওয়েতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার প্রজননকারী জোড়া ছিল।

বনিন পেট্রেল মাটির নিচে গর্ত করে বাসা তৈরি করে, যা ইঁদুরের জন্য সহজ শিকারে পরিণত হয়। হাওয়াইয়ের বন ও বন্যপ্রাণী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিডওয়ে ও কিউর দ্বীপে ইঁদুরের উপস্থিতির কারণে প্রজননকারী জনগোষ্ঠীর এই মারাত্মক পতন ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিডওয়ে অ্যাটল থেকে আক্রমণাত্মক ইঁদুর নির্মূলের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণী সেবা জানিয়েছে, ইঁদুর অপসারণের পর দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। শুধু বনিন পেট্রেল নয়, অন্যান্য ছোট প্রাণী ও উদ্ভিদও নতুন করে বিকশিত হতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রমের এই সাফল্য ২০০৮ সালের পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সেই সময়ে বনিন পেট্রেলের প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

সংরক্ষণবিদদের মতে, মানুষের তৈরি পরিবেশগত সংকট দূর করার পর প্রকৃতি নিজেই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেখিয়েছে। তবে ইঁদুর নির্মূলের সাফল্য এলেও এই সামুদ্রিক পাখিগুলো এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণী সেবা সতর্ক করেছে যে, দ্বীপের বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। মিডওয়ে অ্যাটলের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ক্ষতিকর প্রজাতি অপসারণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিপন্ন প্রাণীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh