
চীনের গুইয়াং শহরের শুইকৌসি ওভারপাসের নিচে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আবাসিক এলাকা। ১৯৯৭ সালে এই ওভারপাস নির্মাণের পর শহরের কেন্দ্রস্থলে জমির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে শহরের বাইরে নতুন বসতি গড়ে তোলার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ সেতুর নিচের অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেতু নির্মাণের প্রায় দুই বছর পর সেখানে স্বল্পভাড়ার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০টি আবাসিক ভবন তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেতুর নিচের বাকি খালি জায়গাগুলোতেও ধীরে ধীরে আরও ভবন গড়ে ওঠে।
সেতুটি প্রায় আবাসিক ভবনগুলোর উচ্চতার সমান হওয়ায় ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের শব্দ ও কম্পন সরাসরি বাসিন্দাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ ট্রাফিক শব্দ, কম্পন এবং সড়কের ধুলার মুখোমুখি হতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। যদিও শহরের কেন্দ্রের খুব কাছে থাকা এবং তুলনামূলক কম খরচে আবাসনের সুযোগ পাওয়ায় অনেকেই এসব প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।
পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় করতে শুইকৌসি ওভারপাসে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে শব্দ ও কম্পন কিছুটা কমলেও এলাকাটি এখনো গুইয়াংয়ের সবচেয়ে শান্ত বা আরামদায়ক আবাসিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত নয়। এছাড়া সড়কের ধুলা ঘরবাড়িতে ঢোকা ঠেকাতেও বাসিন্দাদের খুব বেশি সুযোগ নেই। চার মিলিয়নের বেশি মানুষের গুইয়াং শহরে সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কেন্দ্রের কাছাকাছি স্বল্পমূল্যের আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে শুইকৌসি ওভারপাসের নিচের এই বসতিকে একটি ব্যতিক্রমী নগর-সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :