Facebook Twitter Instagram YouTube

কওমি দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগে হেফাজতে ইসলাম


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ /
কওমি দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগে হেফাজতে ইসলাম

দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা কওমি ধারার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি দলগুলোর তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ শুধু সাংগঠনিক বিভাজনই তৈরি করেনি, বরং মাদ্রাসা পরিচালনা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঐক্যের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে আগস্টের শুরুর দিকে নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা করে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তী বৈঠকে ঐক্যের কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। হেফাজতের লক্ষ্য আপাতত নতুন দল গঠন নয়, বরং কওমি দলগুলোর দূরত্ব কমিয়ে সমন্বিত অবস্থান তৈরি করা।

নির্বাচনী অভিজ্ঞতার বিষয়ে হেফাজতের নেতারা জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের জোটে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোটে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করায় কওমি ঘরানা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাদ্রাসা অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা ও বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

বৈঠকে রাজনৈতিক জোট ছাড়ার বিষয়েও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে জামায়াতের বলয় ছাড়ার প্রস্তাব উঠলে অন্য দলগুলো জমিয়তকে বিএনপির বলয় ছাড়ার পাল্টা আহ্বান জানায়। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস জানান, অতীতে হেফাজতের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ ছিল, যা বর্তমানে বিঘ্নিত। তাই আমির সবাইকে নিয়ে বসেছেন এবং পরবর্তী কর্মপন্থা পরে ঠিক করা হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী জানান, এটি দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ, তবে এখনো নতুন জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন জানান, নীতিগতভাবে সবাই একসঙ্গে চলার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সাংগঠনিক স্বার্থ ও কৌশল থাকায় এই ঐক্য বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, যে কোনো ইসলামি দল নতুন জোট করলে তারা সেটিকে স্বাগত জানাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin