Facebook Twitter Instagram YouTube

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর: প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সংকট


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ /
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর: প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সংকট

ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো, বিপ্লবের রক্তকে যেমন স্মরণ করা হয়, তেমনি বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশ্রুতিভঙ্গ বা আদর্শের বিচ্যুতিকেও ক্ষমা করা হয় না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ এক বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। দেড় হাজারেরও বেশি তরুণের জীবন এবং অগণিত মানুষের পঙ্গুত্ব ও ত্যাগের বিনিময়ে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার, বিচারহীনতার অবসান এবং এমন এক মানবিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যেখানে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান অসম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও (আইসিজেআর-২) ‘জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়েছে।

বিগত দুই বছরে কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, যেখানে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শরিক হিসেবে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের মতে, দেশের মেহনতি মানুষের শ্রমে অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও অর্থনীতি টিকে আছে।

তবে অর্জনের পাশাপাশি অপূর্ণতার তালিকা দীর্ঘ। শহীদ পরিবারগুলো বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম বিচার বিলম্বিত হওয়ার গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক উত্তাপের বড় কারণ হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে টালবাহানা। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর প্রায় পঁচিশটি দল রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই সনদে সই করেছিল এবং গণভোটে মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সরকার সেই গণরায় উপেক্ষা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও যদি লুটপাট ও দুঃশাসনের সংস্কৃতি বজায় থাকে, তবে তরুণদের আত্মত্যাগের মূল্য থাকবে না।

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তাদের সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে, কিছু মহল এই অভ্যুত্থানকে ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার করতে চাইছে। বর্তমান সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, সংস্কারের প্রশ্নে দ্বিধা দূর করা এবং তৃণমূলে চাঁদাবাজি ও দখলদারি নির্মূল করা।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের সম্পদ নয়, এটি জাতির যৌথ অর্জন। সুস্থ গণতন্ত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি বৈধ অধিকার হলেও, প্রতিটি ইস্যুকে অস্তিত্বের লড়াই বা সস্তা ত্যাগের রাজনীতিতে রূপান্তর না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই উচিত সংসদকে মতপার্থক্য নিরসনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা। শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান নেতৃত্বের বড় দায়িত্ব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh