
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অধীনে নবনির্মিত ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতু দুটির উদ্বোধন করেন।
নবনির্মিত এই সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে সেতুতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিন ধরনের উচ্চতা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই নির্ধারিত উচ্চতা অতিক্রমকারী কোনো যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না।
সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যকার তীব্র যানজট ও ভোগান্তি লাঘবের বিকল্প উপায় হিসেবে এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও ও যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
এছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে একটি মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনে যাতায়াতের জন্য পৃথক সংযোগ সড়কও তৈরি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে সরকার।
আপনার মতামত লিখুন :