
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বর্তমান লোডশেডিংয়ের জন্য বিগত ১৭ বছরের জবাবদিহিহীন শাসনব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুই-তিন দিন পর পর দুই থেকে চার ঘণ্টার যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার পেছনে অতীতের অপরিকল্পিত নীতি দায়ী। বাংলাদেশ আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে বড় অংশের জ্বালানি পেলেও তা রূপান্তর ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অতীতে পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা হয়নি। তিনি বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা ও নতুন বিনিয়োগে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই সময়টিকে একটি ‘ট্রানজিশন টাইম’ বা উত্তরণকাল হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক শক্তিশালী রূপ ধারণ করে এবং একটি নতুন সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটায়। প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য জেগে উঠেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি এই তরুণ প্রজন্মকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার না করে দেশের উন্নয়নে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন।
জাতীয় নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভালো কাজের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা পুনর্নবীকরণ করতে হবে, কারণ জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী জানান, সিলেটে বর্তমানে প্রায় ৩০ একর আয়তনের দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। চলতি বছরেই সেখানে প্রায় ১৮৭ একর আয়তনের নতুন আরেকটি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে, যা বিদ্যমান দুটি শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তনের প্রায় ছয় গুণ। এর মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে বলে জানান মন্ত্রী। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক এবং আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ উন্নত হলে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। এছাড়াও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসএমপির কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা সভায় অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :