ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের যাত্রা থামল ইংল্যান্ডের কাছে। মিয়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেছে ইংলিশরা। ম্যাচের শুরুতে দুই দলই এক মিনিট নীরবতা পালন করে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আলেক্সান্ডার শেলডারুপের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে শেলডারুপ অবিশ্বাস্য এক শট নিলে তা ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। যদিও গোলটিতে কেইনকে ফাউল করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। এরপর নরওয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু আলেক্সান্ডার শরলথ ও হালান্ড ২ ভার্সেস ১ পরিস্থিতি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম। এর আগে হ্যারি কেইনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে একবার বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে তা বাতিল করা হয়। এরপর ইংল্যান্ড বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩তম মিনিটে জুড বেলিংহামের দ্বিতীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে অতিরিক্ত সময়ের ১০ম মিনিটে জেড স্পেন্সকে ফাউল করার অভিযোগে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালেও ভিএআর চেক করে দেখা যায় সংঘর্ষটি স্পেন্স নিজেই তৈরি করেছিলেন, ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
ম্যাচে ইংল্যান্ডের একাদশে ছিলেন পিকফোর্ড, কনসা, স্টোনস, গুয়েহি, ও’রাইলি, অ্যান্ডারসন, রাইস, মাদুয়েকে, বেলিংহাম, গর্ডন ও কেইন। অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে খেলেছেন নাইল্যান্ড, রাইয়ারসন, আজার, হেগেম, উলফ, ওডেগার্ড, বার্গ, বের্গ, শরলথ, হালান্ড ও শেলডারুপ।
এর ঠিক পরে নরওয়ে ২-০ ব্যবধানেও এগিয়ে যেতে পারত। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ২ ভার্সেস ১ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন আলেক্সান্ডার শরলথ, তার বামে ছিলেন হালান্ড। কিন্তু বক্সে ঢুকে তিনি দুটো টাচ বাড়তি নিলেন, এরপরই সামনে চলে এলেন দুই ইংলিশ ডিফেন্ডার, গোলটা আর করা হয়নি তার, নরওয়েও ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি।
তবে বিরতির ঠিক আগে ইংল্যান্ড সমতা ফেরায় জুড বেলিংহামের গোলে। এরপর হ্যারি কেইনের গোল বাতিল হয় অফসাইডে, তাই ইংলিশদের এগিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রথমার্ধটা তাই শেষ হয়েছে ১-১ গোলে।
আপনার মতামত লিখুন :