Facebook Twitter Instagram YouTube

দান-সদকার সওয়াব পেতে ইসলামের বিধান ও শর্তাবলি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ /
দান-সদকার সওয়াব পেতে ইসলামের বিধান ও শর্তাবলি

আর্তমানবতার সেবা ও বিভিন্নমুখী দ্বীনি সহযোগিতায় দান-সদকা করা ইসলামের একটি অত্যন্ত প্রিয় ও পছন্দনীয় ইবাদত। এর মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এবং পরকালীন জীবন সমৃদ্ধ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? তাহলে তিনি দাতার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান।’ (সুরা হাদিদ : ১১)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কোনো পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না পছন্দনীয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯২)। এ ছাড়া উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ তার সদকার ছায়াতলে আশ্রয় পাবে, যতক্ষণ না মানুষের মধ্যে ফয়সালা করা হয় (মুসনাদে আহমদ : ১৭৩৩৩)।

তবে দান কবুল হওয়ার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তা অবশ্যই হালাল ও বৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ থেকে হতে হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, হালাল উপায়ে উপার্জিত উৎকৃষ্ট জিনিসগুলো থেকে দান করতে এবং মন্দ জিনিস দানের নিয়ত না করতে (সুরা বাকারা : ২৬৭)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা হালাল সম্পদ থেকে কিছু সদকা করে, আর আল্লাহতায়ালা শুধু হালাল বস্তুই গ্রহণ করেন, তখন রহমান তা ডান হাতে গ্রহণ করেন, যদিও তা একটি খেজুর পরিমাণ হয়। অতঃপর দানটি রহমানের হাতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি তা পাহাড়ের চেয়েও বড় ও বিরাট হয়ে যায়।’ (মুসলিম : ১০১৪)। অবৈধ পথে উপার্জিত সম্পদ থেকে দান করলে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না এবং এর কোনো প্রতিদান পাওয়া যায় না।

দানের সওয়াব বরবাদ হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো রিয়া বা লোক দেখানো মানসিকতা। অনেকে অঢেল সম্পদ দান করলেও যদি তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে দেখানো, তবে সেই দান আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের দান-সদকা বরবাদ কোরো না ওই ব্যক্তির মতো, যে লোক দেখানোর উদ্দেশে আপন সম্পদ ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা : ২৬৪)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কেয়ামতের দিন শহিদ, আলেম ও দানশীল—এই তিন শ্রেণির মানুষকে তাদের লোক দেখানো আমলের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে। কারণ, তাদের প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য ছিল দুনিয়াতে খ্যাতি অর্জন করা, যা তারা পেয়ে গেছে (মুসলিম : ১৯০৫)।

দান করার পর গ্রহীতাকে খোটা দেওয়া বা কষ্ট দেওয়াও দান কবুল না হওয়ার অন্যতম কারণ। ইসলামে দান করার পর তা ভুলে যাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা সতর্ক করে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের সদকাগুলোকে খোটাদান ও কষ্টদানের মাধ্যমে বরবাদ কোরো না।’ (সুরা বাকারা : ২৬৪)। রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি; তাদের মধ্যে অন্যতম হলো খোটা দানকারী (তিরমিজি : ১২১১)।

সর্বোপরি, আল্লাহর কাছ থেকে যথাপ্রাপ্য প্রতিদান পেতে হলে দান-অনুদান হতে হবে ইখলাস ও আন্তরিকতাপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। যে যেমন নিয়ত করবে, সে তেমন ফল পাবে।’ (বোখারি : ১)। বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া আমল যত বড়ই হোক, আল্লাহর কাছে তার কোনো মূল্য নেই, নেই প্রাপ্তি ও প্রতিদানও।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh