
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খেজুরতলা খালে প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ এবার মাত্র একটি নৌকা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। খালে পানির তীব্র সংকট থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তবে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নৌকা নিয়েই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় দুইশত বছর ধরে প্রতি বছর ১ ভাদ্র তারিখে খেজুরতলা খালে এই নৌকা বাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই খাল ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিযোগীরা বিভিন্ন ধরণের নৌকা নিয়ে অংশ নেন এবং খালের দুই পাড়ে হাজারো দর্শক ভিড় করেন। তবে এবার পানির অভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাইচ আয়োজন করা না গেলেও মানুষের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি।
অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। নারী, পুরুষ ও শিশুরা খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন উপভোগ করেছেন, আবার কেউ কেউ নৌকায় চড়েও বাইচ দেখেছেন। উৎসবকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে বসেছিল শত শত অস্থায়ী দোকান। ব্যবসায়ীরা খেলনা, খাবার, মিষ্টি, ঝালমুড়ি, চটপটি ও কাপড়সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।
খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী হুমায়ূন কবির জানান, একসময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে খালপাড় মুখর হয়ে উঠত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে নানা কারণে সেই ঐতিহ্যে ভাটা পড়েছে। আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রাশেদ হোসেন বলেন, একটি নৌকা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের এই আগ্রহ ও ভালোবাসা দেখে তারা ভবিষ্যতে আবারও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের আশা করছেন।
চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পানির স্বল্পতার কারণে এবার প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তবে ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতীকীভাবে একটি নৌকা দিয়ে আয়োজনটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আগামীতে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। স্থানীয়রা এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে খালটি নাব্য রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাতে দুইশত বছরের এই ঐতিহ্য টিকে থাকে।
আপনার মতামত লিখুন :