Facebook Twitter Instagram YouTube

গুম প্রতিরোধে নতুন আইন, দোষীদের যাবজ্জীবন ও ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ /
গুম প্রতিরোধে নতুন আইন, দোষীদের যাবজ্জীবন ও ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত

গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর আইনটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুমের ঘটনায় মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো হদিস না পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার সমন্বিত কাঠামো রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান থাকবে এবং তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান এবং কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খসড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও আলাদা তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে আইনটিতে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin