
ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেহংয়ের পাঠানো এক বার্তায় দুই নেতার এই সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠকটি চূড়ান্ত হলে গত তিন বছরের মধ্যে এটি হবে তাদের টানা তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি আলোচনা। এর আগে রাশিয়ার কাজান এবং চীনের তিয়েনজিনে অনুষ্ঠিত বহুপীয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত জু ফেহং জানিয়েছেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, মতপার্থক্য দূর করা এবং একে অপরের উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চীন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলনে বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈষয়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-চীন অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের পর এটিই শি চিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই সফর ও সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চীনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও ব্রিকসের ভারতের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি শি চিনপিংয়ের সেই মন্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, চীন ও ভারত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং সহযোগিতার অংশীদার। এছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও শি করমর্দন করেছিলেন। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শি তাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের সভাপতিত্বে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফলে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-শি বৈঠকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :