Facebook Twitter Instagram YouTube

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন তলানিতে


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ /
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন তলানিতে

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্প খাতে ভয়াবহ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদামতো গ্যাস এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কারখানাগুলোর উৎপাদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। বকেয়া বেতন, ব্যাংক ঋণ এবং পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়ায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে ১০০০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হলেও, বর্তমানে তা কমে ৫০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে। শিল্পমালিকদের তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, রি-রোলিং মিল ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সংকট সবচেয়ে প্রকট। গ্যাসক্ষেত্রে চাপের অভাবের কারণে অনেক কারখানায় যেখানে ১৫ থেকে ২০ পিএসআই প্রেসার প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল দিয়ে জেনারেটর চালানো হলেও তাতে উৎপাদন খরচ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। শিপমেন্ট বিলম্বিত হওয়ায় অনেক রপ্তানিকারককে ব্যয়বহুল এয়ার ফ্রেইটে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এবং গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে শিফট কমিয়ে আনা, ওভারটাইম বন্ধ করা এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ কমে ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জামালপুরে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। গ্যাসের চাপের অভাবে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) জানিয়েছে, গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির মালিকানাধীন ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ছাড়া আর তেমন কিছু করার নেই। প্রকৌশলীদের মাধ্যমে এটি সচল করার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin