Facebook Twitter Instagram YouTube

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৮৫ ঘাঁটিতে ইরানের বড় ধরনের পাল্টা আঘাত


প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ /
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৮৫ ঘাঁটিতে ইরানের বড় ধরনের পাল্টা আঘাত

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি প্রধান শহর ও একাধিক সামরিক অবস্থানে মার্কিন বিমানবাহিনী ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন উপকূলীয় শহরগুলোতে এই জোরালো হামলা চালানো হয়। মার্কিন হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল কৌশলগত কেশম দ্বীপ, যেখানে অন্তত সাতটি সামরিক অবস্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান আঘাত হানে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিক শহরের ছয়টি অবস্থানে এবং বন্দর আব্বাসের দশটি অবস্থানে—যার মধ্যে সামরিক টেলিযোগাযোগ টাওয়ারও রয়েছে—নিখুঁতভাবে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান পরমাণু পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই মার্কিন হামলাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ, নতুন হামলার হুমকি, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের মাধ্যমে লেবাননে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, দাদাগিরি ও জোরপূর্বক দাবি আদায়ের দিন শেষ।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পাল্টা হামলায় আক্রান্ত প্রধান মার্কিন স্থাপনাগুলোর মধ্যে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি অন্যতম। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।