
আগামী রোববারের স্পেন–আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক মহারণ। একদিকে বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত ট্রানজিশন আর তরুণ প্রতিভার ঝলক; অন্যদিকে অভিজ্ঞতা, ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আর লিওনেল মেসির অমলিন জাদু। এই ফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে ব্যক্তিগত ও দলগত তিনটি লড়াইয়ের ওপর।
এমেরিক লাপোর্ত বনাম লিওনেল মেসি: মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৩৯ বছরে পা দিলেও মেসির ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতায় একটুও ভাটা পড়েনি। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসি এখন ২১ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার দুটি অ্যাসিস্টই আর্জেন্টিনাকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছিল। স্পেনের রক্ষণভাগের মূল দায়িত্ব থাকবে অভিজ্ঞ এমেরিক লাপোর্তের কাঁধে। রদ্রি ও পাউ কুবারসিকে সঙ্গে নিয়ে লাপোর্তকে মেসির খেলার জায়গা ছোট করতে হবে। স্পেনের রক্ষণভাগ নকআউট পর্বে প্রায় দুর্ভেদ্য থাকলেও মেসির মতো ফুটবলার মুহূর্তেই ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারেন।
রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ: মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই মিডফিল্ডার রদ্রি ও এনজো ফার্নান্দেজ। স্পেন অধিনায়ক রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে ৬৪৮টি সফল পাস দিয়েছেন এবং ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দৌড়ে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ ৪৩টি ফোর্সড টার্নওভারের মাধ্যমে রক্ষণ ও আক্রমণে সমান কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার সামর্থ্যও দেখিয়েছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার, যার প্রমাণ শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল।
লামিনে ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তালিয়াফিকো: স্পেনের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ লামিনে ইয়ামাল হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত গতি ও বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন। ফাইনালে তার ডান প্রান্তের দাপট সামলাতে হবে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোকে। ইয়ামালের গতি ও সৃজনশীলতার বিপরীতে তালিয়াফিকোর অভিজ্ঞতা এবং রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এই ফাইনালের অন্যতম বড় লড়াই হতে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :