
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এই অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত একটি এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে একটি ট্যাংকারে মার্কিন মেরিন সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে বাহিনীটি।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কাকে জোরালো করে তুলেছে। ইতিমধ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হবে।
আপনার মতামত লিখুন :