Facebook Twitter Instagram YouTube

শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: রুহুল কবির রিজভী


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ / ০
শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: রুহুল কবির রিজভী

দেশের শিশু, কিশোর ও তরুণদের নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনার আর কোনো ক্ষমা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যে পরিমাণ রক্তপাত ঘটেছে, এরপর শেখ হাসিনার পক্ষে আবার দেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তিনি যদি আবার এ দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চান, তবে পাকিস্তানের রক্তপিপাসু শাসক ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের উত্তরসূরিদেরও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হয়। টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানের চেয়ে শেখ হাসিনা কোনো অংশে কম নিষ্ঠুরতা দেখাননি বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কারাগারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আর রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল যেভাবে ইতিহাসে আর ফিরতে পারেনি, ফ্যাসিবাদের প্রতীক শেখ হাসিনার দলের ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে। তাদের রক্তেই মিশে আছে ভয়ংকর রক্তপিপাসা।

ইতিহাসের বিভিন্ন প্রতিরোধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ কিংবা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার বীরত্বগাথার মতোই, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও দেশের সাধারণ মানুষ এক অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রচণ্ড চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। অথচ সেই সংকটের সময়ে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হলেও তিনি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি।

আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এরপর গোপন স্থান থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিএনপির পূর্ণ সমর্থনের কথা দেশবাসীকে জানান। তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের নির্মম শাহাদাতের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান, যা ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh