
দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হাইকোর্টে দাখিল করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সালে সরকারি মদদে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অবশ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেয়া ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা বের করে সেই অর্থ দিয়েই পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কিনেছে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদে থেকে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আর্থিক সংকটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পরবর্তীতে এসব প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে লন্ডনভিত্তিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্য লয়েড অনুমোদন দিয়েছে।
সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আদালত বর্তমানে ওই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার-সংক্রান্ত মামলার শুনানি হাইকোর্টে চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :