
জাপানের রাজধানী টোকিও সংলগ্ন চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। রেকর্ড পরিমাণ এই বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর থেকে চিবা অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি আগস্ট মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন গুণ এবং জাপানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূখণ্ডের ওপর উষ্ণ-আর্দ্র বাতাস ও শীতল বাতাসের মিশ্রণে তৈরি চরম বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের আবহাওয়ার ইতিহাসেই এটি এক চরম ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। আমি অতীতে বহু দুর্যোগের মোকাবেলা করেছি, কিন্তু এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনো হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সর্বাধিক লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তা কমিয়ে লেভেল-৪-এ নামিয়ে আনা হলেও নদী উপচে প্লাবিত হওয়া ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা এখনো বহাল রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে, কিওডো নিউজ এবং আসাহি পত্রিকার তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন যিনি নিজের গাড়িতে প্লাবিত রাস্তায় ডুবে মারা যান। এছাড়া আরও দুজন রাস্তায় ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :