
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে, যার মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা অন্যতম। সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর, যা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এরপর থেকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা দেখা দেয়। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন এবং গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করেন।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে ভার্চ্যুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। যদিও ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠে আসে।
আসন্ন আলোচনায় অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে, কারণ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি সফরেই সব সংকটের সমাধান সম্ভব না হলেও, নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য হলো আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে সেই পথ তৈরি করা।
আপনার মতামত লিখুন :