Facebook Twitter Instagram YouTube

ডিমের দাম বাড়লেও লোকসানে পিরোজপুরের খামারিরা, বন্ধের পথে ৩০০ খামার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ /
ডিমের দাম বাড়লেও লোকসানে পিরোজপুরের খামারিরা, বন্ধের পথে ৩০০ খামার

পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও পোলট্রি খামারিরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। পোলট্রি খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ফলে বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও খামারিরা এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে জেলার প্রায় ৩০০টি খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই উৎপাদিত ডিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয় নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায়।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা জুলাইয়ের শুরুতে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। ডজনে প্রায় ২০ টাকা দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ এতই বেশি যে খামারিদের হাতে লাভের অংশ থাকছে না। খামারিদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে ডিমের দামে বিশাল ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করেন এবং পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়েন, যা খামারিদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের খামারি প্রসেনজিৎ হাওলাদার ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়ে বলেন, খাবার ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনলে খামারিদের টিকে থাকা কঠিন। নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের খামারি ফিরোজ শেখ জানান, ঋণের চাপে ইতিমধ্যে অনেক খামারি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে ডিমের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে বিক্রির হার গত মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় ডিমই তাদের সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস ছিল, কিন্তু এখন তা কেনাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, পিরোজপুরে সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে খাবারের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে এবং প্রায় ৩০০ খামার বন্ধ হওয়ার পথে। যদিও একই সময়ে জেলায় নতুন করে প্রায় ১৬০টি খামার গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, খামারি থেকে ভোক্তার হাতে ডিম পৌঁছাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দুই থেকে তিন টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পিরোজপুরের এই পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে খামারিরা আশঙ্কা করছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din