
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বোর্ডে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমেছে, ঠিক তেমনি শতভাগ ফেল করা স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে। সোমবার প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৩৬টির সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৭৫টি। বিপরীতে, এবার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা গত বছর ছিল মাত্র দুটি। এবার যশোর বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার চারটি করে এবং খুলনা জেলার দুটি ও বাগেরহাট জেলার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব স্কুলের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। এর মধ্যে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১ জন ও চান্দুয়া সমসকাটি গার্লস হাইস্কুল থেকে ৩ জন, শার্শা উপজেলার সাড়াতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল থেকে ২ জন এবং মুক্তিযোদ্ধা জিকেজিএস সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাতক্ষীরা নাইসা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৭ জন, আশাশুনি উপজেলার গোদারা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪ জন, দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ধাপুখালি SECONDARY স্কুল থেকে ৪ জন এবং শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এছাড়া খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাতেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন ও খালিশপুরের আসমা সরওয়ার ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ডি এন একতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
গত বছর শতভাগ ফেল করা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল নড়াইলের মুলাদি তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নাহালখালি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই দুটি স্কুল থেকে একজন করে ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল।
যশোর বোর্ডের বিগত বছরগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে শতভাগ পাস করেছিল ৪২২টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২০২৩ সালে ১৯৩টি এবং ২০২২ সালে ৫১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে শতভাগ অনুত্তীর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ২০২৩ সালে বোর্ডের তিনটি স্কুলের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। ওই স্কুলগুলো হলো—যশোরের শার্শা উপজেলার সাড়াতলা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার তালা উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নড়াইলের মুলাদি তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
আপনার মতামত লিখুন :