Facebook Twitter Instagram YouTube

চাকরির আশায় টাকা দিয়ে এখন ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ /
চাকরির আশায় টাকা দিয়ে এখন ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে চাকরি পাওয়ার আশায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন লিফটম্যান সুমন মিয়া। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠান। অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত পিমা অ্যাসোসিয়েটসের কার্যালয়ে গিয়ে দুলালের ভাগনে রায়হানের হাতে তুলে দেন, যে সময় দেলোয়ার হোসেন দুলাল নিজেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর আরও টাকা দাবি করা হলে সুমন মিয়া তা দিতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত নিয়োগ তালিকায় তার নাম না আসায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যেতে থাকেন। গত ১৯ জুলাই টাকা চাইলে দুলাল ঢাকার বাইরে আছেন বলে জানান এবং ২২ জুলাই অফিসে গিয়ে টাকা নিয়ে যেতে বললেও সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ফোনও রিসিভ করছেন না।

শুধু সুমন মিয়া নন, পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে চাকরির আশ্বাস দিয়ে আরও অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৬ জন অভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্যে অন্তত কয়েকজনের কাছে চাকরি পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন প্রধানের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্যা রানী ও জয় ডোমের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং মঞ্জু রানীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। হাফিজ উদ্দিন প্রধান চাকরিচ্যুত বা বঞ্চিত কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, টাকা ছাড়া তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে না।

গত এপ্রিল মাসে ই-জিপি পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাছির উদ্দিন ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন প্রধান সমন্বয় করেছিলেন। টেন্ডারে ৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও, প্রত্যাশিত অর্থ দিতে না পারায় ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে কর্মরত অন্তত ১৬ জন অভিজ্ঞ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দুলালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি, বরং সরাসরি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমান জানান, লাইসেন্স নিয়ে অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। ভুক্তভোগীরা এই পুরো প্রক্রিয়াকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh