Facebook Twitter Instagram YouTube

কাউনিয়ায় ধসে পড়া সেতুর জায়গায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা, ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ /
কাউনিয়ায় ধসে পড়া সেতুর জায়গায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা, ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার পর থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০টি গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। তিস্তা নদীর বন্যার পানিতে সেতুটির দুই পাশের রাস্তা ভেসে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই কংক্রিটের সেতুটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু নির্মাণের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় বন্যার তোড়ে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে যায়। এরপর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে নেন।

বর্তমানে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছেন। এমনকি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ির মতো যানবাহনগুলোও এই নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই পার হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এই পথ দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও এ পর্যন্ত কেবল আশ্বাসই মিলেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজার রহমান জানান, ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা হলে সবার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলী জানান, নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডিতে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে নকশা বা ডিজাইন তৈরির পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এরপরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh