Facebook Twitter Instagram YouTube

কর্মচারীকে থাপ্পড় মেরে প্রত্যাহার হলেন ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ /
কর্মচারীকে থাপ্পড় মেরে প্রত্যাহার হলেন ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মচারীকে মারধর ও থাপ্পড় মারার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ত্রিশালের ইউএনওকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকার একটি বালু বিক্রির পয়েন্টে ইজারাদারের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী প্রথমে বাঁ হাত দিয়ে এবং পরে ডান হাত দিয়ে ওই কর্মচারীকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত র‍্যাবের এক সদস্য ওই কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও তাঁর হাত থেকে একটি লাঠি কেড়ে নিয়ে ওই কর্মীকে চারবার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান এ সময় ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।

মারধরের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনভর ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। সকাল থেকে তাঁর খোঁজে আসা অনেক সেবাপ্রার্থী কাজ না করিয়েই ফিরে যান। তবে তাঁর এই অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত স্থানীয় ত্রিশাল পৌর এলাকার একটি হাসপাতালে এ ঘটনা নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে ইজারাদারের প্রতিনিধি ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। বৈঠকের একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী সেখানে উপস্থিত হয়ে বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা বসেছি। আমাদের মধ্যে এখন এ ধরনের কোনো বিষয় নেই।’ মারধরের ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনসংগত কার্যক্রমের মধ্যে চলমান অবস্থায় হঠাৎ করে এ ধরনের একটা ঘটনা, তো অবশ্যই এটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করব। আমি দুঃখ প্রকাশ করি, ইভেন এটা আমি ফিলও করি।’

ইউএনওর অনুপস্থিতির কারণও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।এর মধ্যে আজ বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থানীয় ত্রিশাল পৌর এলাকায় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি হাসপাতালে ওই ঘটনা নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo