
তেহরানের ক্ষমতাসীন কট্টরপন্থি ও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, ইরানের মূল ক্ষমতা ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের অবস্থানের কথা তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানি শাসকদের সাথে চুক্তি করা কঠিন কারণ তারা দক্ষ আলোচক নন এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন। তারা মূলত ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হন, যার ফলে তাদের সাথে কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত জটিল বলে তিনি অভিমত দেন।
একই সাথে যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করেন রুবিও। সমুদ্রপথে পরিচালিত এসব আক্রমণকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে 'নজিরবিহীন' একটি ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেন। নাৎসি বাহিনীর সাবমেরিন কৌশলের সঙ্গে ইরানের এই পদক্ষেপের তুলনা করে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মতো কৌশল কঠোরভাবে নিন্দনীয় এবং এটি প্রতিহত করতে পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর আগে দু’বার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি' নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেসব উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। চলমান এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
সফরকালে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র বাঘের ঘালিবাফের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে ঘালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেহরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৭টি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তেহরান নতুন করে কোনো আলোচনায় যাবে না।
গত কাল ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, “ইরানি শাসকদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন… দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নয় এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :