Facebook Twitter Instagram YouTube

পিএমওর নির্দেশের পরও গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির প্রতিবেদন


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ / ০
পিএমওর নির্দেশের পরও গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে পাঁচ সপ্তাহ পর দাখিল করা এই প্রতিবেদনে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং আওয়ামী সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার মতো মূল অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনের বড় অংশ জুড়ে লাইসেন্স প্রদানের বৈধতা ও কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেবা চালু করতে না পারায় সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে সামিট, সিডিনেট ও মেটাকোর-এর মতো কোম্পানিগুলোর যোগসাজশে অবৈধভাবে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন এবং বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। বিটিআরসির নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং ২০২১ ও ২০২২ সালের সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফা বাড়িয়ে ১০ মে ২০২২ পর্যন্ত করা হয়েছিল বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ জুলাই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করে কমিটি। এতে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ৯২.৪৬ নম্বর, সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ৮৭.৬৪ নম্বর এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড ৮৬.৪৮ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই তিন প্রতিষ্ঠানকে পৃথক লাইসেন্স প্রদান করা হয়। বিটিআরসি দাবি করেছে, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

কনসোর্টিয়াম গঠনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে তিন প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিটিআরসির যুক্তি, এককভাবে তিনটি স্বতন্ত্র ক্যাবল স্থাপন করতে গেলে ব্যয় তিন গুণের বেশি হতো, তাই ব্যয় কমাতে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার আন্ডারওয়াটার ক্যাবল স্থাপনের যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ট্রাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো কমিশনে জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও পূর্বানুমোদন নেওয়ার কোনো আইনি বাধা নেই বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ফাইবার পেয়ারে ১৫.২ টিবিপিএস ক্যাপাসিটি অর্জিত হবে এবং বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে।

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৩৮আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৩৯

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh