
চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে আয়োজিত ১১ দলের এক বিশাল সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি পূরণ করা না হলে পূর্ববর্তী আন্দোলনের মতোই এবারও এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "তারেক রহমানকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি, যারা আমাদের ভাইদের খুন করেছে, তাদের একটা একটা ধরে ফাঁসিতে জুলাতে। আমরা ছয় দফা নিয়ে এসেছি। সেই দাবি পূরণ না হলে ‘২৪-এর মতো ২৪ দফা যেভাবে এক দফায় পরিণত হয়েছিল, প্রয়োজনে এবারও তাই হবে। এক দফার আন্দোলন।"
একই সমাবেশে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "সরকারকে বলবো, আপনাদের কাছে এমন কোনো কার্ড থাকলে দেন, যেটা দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। আপনারা সক্ষম না হলে, না পারলে ১১ দল আছে। তাদের কাছে ছেড়ে দেন।"
জনগণের দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে কেবল নারী কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
সমাবেশ চলাকালে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আয়োজিত লংমার্চের পটভূমিতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি সংক্ষিপ্ত নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলামে পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান।
এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী এমপি, জামায়াত নেতা মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম এবং চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :