
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দুই দিন পার হলেও এখনো চলছে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়লে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, বরফ ও কাদা পাহাড়ি নদীর দিকে নেমে আসে, যার ফলে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নেপালে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, কারণ বন্যার সময় সীমান্তবর্তী এই পথ দিয়ে অনেক পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রী চলাচল করছিলেন। চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক।
বন্যার প্রবল স্রোতে নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার, ভারী যন্ত্রপাতি, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে এবং দুর্গম জনপদে জরুরি সামগ্রী ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।
উদ্ধার অভিযানের মাঝেই নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর ওপর একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। পানির স্তর বাড়তে থাকায় এই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আবারও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :