Facebook Twitter Instagram YouTube

২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ /
২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের

দেশের জুয়েলারি খাতকে আধুনিক ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করার মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটি এ খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভ্যাল-২০২৬’-এ বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।

বাজুসের মতে, জুয়েলারি খাতের অন্যতম বড় বাধা হলো নীতিমালার অস্পষ্টতা। সংগঠনটি দাবি করেছে, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে অলংকার আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব। এছাড়া ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হলে সরকার প্রতি বছর এ খাত থেকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত সোনা এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাজুস। এতে সরকার এককালীন ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার পাশাপাশি সোনা মজুতের একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে পারবে।

শিল্পের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় দক্ষ কারিগরদের কাজে লাগিয়ে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বাজুসের। এর মাধ্যমে ৫০ হাজার মানুষের সরাসরি এবং আরও এক লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটি ঢাকায় ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ চেয়েছে। সেখানে আধুনিক কারখানার পাশাপাশি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, স্বর্ণপল্লীতে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫ থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের হীরার অলংকার রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং হীরা আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুসের তথ্যমতে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করছে। বর্তমানে এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin