Facebook Twitter Instagram YouTube

নীলফামারীতে তীব্র লোডশেডিং, ব্যাহত কৃষি ও শিল্প উৎপাদন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ /
নীলফামারীতে তীব্র লোডশেডিং, ব্যাহত কৃষি ও শিল্প উৎপাদন

তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে নীলফামারীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ নির্ভর কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিতে সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে এই বড় ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদনও করা হয়েছে।

শিল্পকারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর উপজেলাসহ কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র অচল থাকায় জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। জাতীয় পর্যায়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy