Facebook Twitter Instagram YouTube

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পতাকা: বাধা ও হয়রানির অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ /
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পতাকা: বাধা ও হয়রানির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান প্রতীকগুলোর একটি হয়ে উঠলেও, একই সঙ্গে এটি সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়মানুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি থাকলেও, ম্যাচ দেখতে আসা বেশ কয়েকজন সমর্থক মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন যে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ফিলিস্তিনের পতাকা সরিয়ে ফেলতে বলেছেন বা বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিয়েছেন।

ফিলিস্তিন এবারের বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও, আরব দেশগুলোর সমর্থকদের ব্যাপক সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গ্যালারিজুড়েই ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনপন্থি অনেক অধিকারকর্মীর মতে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান হলেও, এই সংঘাতগুলো প্রমাণ করে যে জনপরিসরে ফিলিস্তিনি পরিচয়কে ক্রমবর্ধমান নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে।

ওকল্যান্ডের ফিলিস্তিনি-বংশোদ্ভূত আমেরিকান সংগঠক মাইসা মোরার এই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির জন্য ফিফাকেই দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার দেওয়া বার্তাই বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা নিরাপত্তাকর্মীদের পতাকা বহনকারী সমর্থকদের বাধা দেওয়ার সাহস জুগিয়েছে। মোরার বলেন, “আমরা খবর দেখছিলাম যে ফিফা স্টেডিয়ামে ফিলিস্তিনের পতাকা নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। শুরুতে আমার মনে হয়েছিল, এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কেন? বিশ্বকাপে মানুষ সব সময়ই নিজেদের পতাকা নিয়ে আসে। তাই ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো যাবে কিনা, তা নিয়ে এমন প্রশ্ন ওঠাটা আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছিল।”

কিছু সমর্থকের জন্য এই আশঙ্কা দ্রুতই বাস্তবে রূপ নেয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ওমর দ্রেইদি লেভিস স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ দেখার সময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। একজন নিরাপত্তাকর্মী তার কাছে এসে বলেন, “আপনি ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন না।”

মিডল ইস্ট আইকে দ্রেইদি জানান, তিনি সৌভাগ্যবান ছিলেন যে ফিফা মাস্টার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফিফায় তার বন্ধু রয়েছে এবং তিনি ফিফার নিয়মকানুন বোঝেন। তিনি এনবিএ খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন, তাই কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ তা তিনি জানেন।

এক্সে পোস্ট করা দ্রেইদির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি কাঁধে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়িয়ে ওই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি যদি আমাকে ফিলিস্তিনের পতাকা নামিয়ে ফেলতে বাধ্য করেন, তবে ওই ব্যক্তিকেও তার কেফিয়াহ (ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ) খুলে ফেলতে বলুন।” এ সময় তিনি তাঁর পক্ষে কথা বলা আরেক সমর্থকের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।

দীর্ঘক্ষণ বাগ্‌বিতণ্ডার পর ওই নিরাপত্তাকর্মী রেডিওতে তার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ফিরে এসে দ্রেইদিকে জানান যে তিনি পতাকাটি রাখতে পারবেন। দ্রেইদি বলেন, তিনি যখন তাকে বললেন, “আপনি পতাকাটি রাখতে পারেন, এখন শান্ত হোন,” তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “আপনিই তো এসে আমাকে হয়রানি করেছেন।”

দ্রেইদি আরও জানান, তাদের এই বাদানুবাদ দ্রুতই আশপাশের দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার পেছনে বসা দুজন আলজেরীয় এতে যোগ দেন এবং পেছনের সারির এক নারীও ভিডিও করতে শুরু করেন। দ্রেইদি এটিকে সংহতি, গর্ব ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে ওই দুজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনলাইনে ঘটনাটি পোস্ট করার পর দ্রেইদি আরও অনেক সমর্থকের কাছ থেকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “মাঠে থাকা অনেকেই আমাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তাদের পতাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমার খারাপ লেগেছে, কারণ আমি চাই তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানুক।”

দ্রেইদি আরও পরামর্শ দেন যে, সমর্থকদের উচিত টুর্নামেন্টের নিয়মাবলি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং সম্ভব হলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও বা প্রমাণ রাখা। তিনি চান সমর্থকেরা জানুক যে তারা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে পারেন এবং এটি তাদের অধিকার। যদি তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, কারণ তিনি ফিফার আইনি দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিডল ইস্ট আই ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor