Facebook Twitter Instagram YouTube

বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ /
বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আল-কায়েদা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটিতে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) এখন আর কেবল খণ্ডিত গোষ্ঠী নয়, বরং একটি আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। বড় কোনো ইউনিটের বদলে তারা ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং রসদ সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়।

একিউআইএস-এর কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়। এছাড়া, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপি-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকবাহী যান বিস্ফোরণের ঘটনায় ২১ জন নিহত হওয়ার পেছনেও এই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে এবং তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র বা ‘তাজকিরা’ তাদের কাছে রয়েছে, যা তালেবান ও একিউআইএস-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত বহন করে। যদিও তালেবান সরকার প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবুও তারা ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে সমর্থন দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত জুড়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিয়মিত হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে এই অঞ্চলে নিরাপত্তার বাড়তি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh