Facebook Twitter Instagram YouTube

সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধান পাস, সংসদে বিরোধী দলের বিতর্ক


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ /
সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধান পাস, সংসদে বিরোধী দলের বিতর্ক

সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ১৮৮২’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।

নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সেই সম্পত্তির ভোগাধিকার বজায় থাকবে এবং আইন অনুযায়ী তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

আইনমন্ত্রী বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে কাজ করবে এবং সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই আইন প্রচলিত সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবাসহ অন্যান্য স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

বিলটি পাসের আলোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্ট ‘কন্ট্রাডিকশন’ বা বিরোধ রয়েছে। তিনি একে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে অভিহিত করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান আইনটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যা সমাধানের নামে ইসলামি বিধান পাস কাটানোর সুযোগ নেই।

বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইন হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি এবং যে গিফটের কথা বলা হচ্ছে তা হেবা নয়। সামাজিক বাস্তবতার নিরিখেই এই বিল আনা হয়েছে। বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেও পরে আবার ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি পাস হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo