
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মধ্যেই দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা নিয়মিত এই সুবিধা পাবেন। চলতি আগস্ট মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরতদের মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ভাতার আওতায় থাকা মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা রয়েছে। ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে মসজিদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ১৫টি করে এবং পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায় থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারিত হয়েছে।
সম্মানি ভাতার হার অনুযায়ী, নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া মুয়াজ্জিন, সেবাইত, উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকরা পাবেন তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেমরা মাসিক দুই হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। এই অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
সরকার এই খাতের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় আসছে এবং পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ হাজার ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় কর্মীকে প্রথমবারের মতো এই সম্মানী দেওয়া হয়েছিল। সেই কার্যক্রমটি গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :