Facebook Twitter Instagram YouTube

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১০, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ /
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি

ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার আন্দোলনকারীরা রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে বিধানসভা ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকেই বিধানসভা এলাকা ঘিরে রাখে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। শিক্ষার্থীদের মিছিল বিধানসভার কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জলকামান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যেও কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অনশনরত ছাত্রনেতা ৩৩ বছর বয়সী দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশনে থাকা এই নেতা অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্ট্রেচারে করে আন্দোলনের সামনের সারিতে যোগ দেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে যে ধরনের কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কি পাকিস্তান, বাংলাদেশ নাকি চীনের সীমান্ত? এরা তো শিক্ষার্থী।’

দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো আরও বলেন, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনস্থলে এসেছেন কারণ সরকার তাদের দাবি উপেক্ষা করতে পারবে না। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আন্দোলন যেন সহিংস না হয়। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিন হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা রক্তপাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী অনশন করছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা বাতিল করে পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার করা। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রোববার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানালেও, আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশের বাধা ও জলকামানের ব্যবহার এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy