Facebook Twitter Instagram YouTube

সোনাহাট স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ /
সোনাহাট স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফা দাম বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের পাথর সরবরাহের প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস, ট্রাক টার্মিনাল এবং অধিকাংশ ডিপো পাথরশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলোও অলস পড়ে আছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, কিন্তু গত চার দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে নিম্নমানের ছোট পাথর সরবরাহ করছেন, যা অটো ক্রাশ মেশিনে ভাঙলে আরও ছোট হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পাথরের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। এছাড়া, পাথরের দাম প্রতি টন ১১ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলারে উন্নীত করায় বাংলাদেশে পৌঁছাতে খরচ ১ হাজার ২৮০-১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরাসরি খনি থেকে লোড করার ফলে পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালির মিশ্রণ থাকাকেও মান খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, চাহিদামতো পাথর না পাওয়া এবং মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম একই অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের পাথরের কারণে ঠিকাদাররা পাথর কিনতে চাচ্ছেন না।

এদিকে, কাজ না থাকায় শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিনের মতো অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ট্রাকচালক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় তাদের আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। কমিশন এজেন্ট শুক্কুর আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ দিনে তারা কোনো ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারেননি। সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে এবং সরকার এর ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস ফাঁকা পড়ে আছে।

স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের মূল্য ছিল ১১ ডলার। যা বাংলাদেশে পৌঁছাতে মোট খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ টাকা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh