Facebook Twitter Instagram YouTube

অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ /
অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন জুয়া, অনিয়ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. রকিবুল হাসান খান রকি। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করে। এই আদেশ জারির পরপরই তা কার্যকর করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় রকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খোরপোশ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে আগে থেকেই খবর পেয়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা একাধিক ব্যাংকে বেশ কয়েকটি হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সহকর্মীরা জানান, অফিসে তিনি সবসময় চুপচাপ থাকতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা বা কথাবার্তা বলতেন না। নিজের মতো করেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রকিবুল হাসান খান রকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin