
ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। উভয় পক্ষই আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও, কে আগে উদ্যোগ নেবে তা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে এবং তাদের শর্ত মেনেই তা করতে হবে।
অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তাদেরই আমাদের এখানে আসতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা সম্মত হয়, কারণ এখন তাদের অহংকারের অবসান হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসবে না বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, সরকারি সূত্র দাবি করেছে যে আন্দোলনকারীরা আলোচনায় বসতে রাজি হলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ কোনো স্থান বা যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে তারা কোনোভাবেই সরে আসবেন না।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সরকার একদিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সিজেপির প্রতিনিধিদলকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডার বাসভবনে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।
এর আগে সোমবার জেপি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপির দুই প্রতিনিধির বৈঠক হয়েছিল, যেখানে নাড্ডা দাবিগুলো নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে একই দিনে হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার সময় পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়ে। এই সহিংস ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :