Facebook Twitter Instagram YouTube

বিশ্বকাপ জিতে রেকর্ড প্রাইজমানি স্পেনের, খেলোয়াড়দের প্রাপ্তি কত?


প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ /
বিশ্বকাপ জিতে রেকর্ড প্রাইজমানি স্পেনের, খেলোয়াড়দের প্রাপ্তি কত?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নিউ ইয়র্কের ফাইনালে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বশিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে। ১০৬তম মিনিটে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছ থেকে টুর্নামেন্টের রেকর্ড পরিমাণ ৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রাইজমানি পেয়েছে, যা বর্তমান বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা) অনুযায়ী প্রায় ৬১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশন ও ফুটবলারদের মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী এই পুরস্কারের একটি বড় অংশ খেলোয়াড়দের বোনাস হিসেবে প্রদান করা হবে। বিশ্বজয়ী হওয়ার সুবাদে ফিফার দেওয়া মোট প্রাইজমানির ৪৫ শতাংশ বা প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার (প্রায় ২৭৭ কোটি ২ লাখ টাকা) ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের মধ্যে বণ্টন করা হবে। কর কাটার আগে প্রতিটি খেলোয়াড় প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা করে পেতে যাচ্ছেন। অবশিষ্ট অর্থ ফেডারেশন তাদের তহবিল ও ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যয় করবে।

ফাইনালে ওঠার মাধ্যমেই স্পেন অন্তত ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার নিশ্চিত করেছিল, যার ৪০ শতাংশ বা ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার ২৬ জন খেলোয়াড়কে দেয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে শিরোপা না জিতলেও প্রতিটি ফুটবলার কর কাটার আগে ৫ লাখ ৭ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি পেতেন। তবে শিরোপা জয়ের ফলে সেই অর্থ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনা দল ফিফা থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা) প্রাইজমানি পেয়েছে। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই অর্থ কীভাবে ভাগ করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা প্রাইজমানির মোট পরিমাণ আগের আসরের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ড পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি ৫ লাখ টাকা) এবং চতুর্থ হওয়া ফ্রান্স পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা)। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও মরক্কোর প্রতি দল পেয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে (প্রায় ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা)।

শেষ ১৬ দল বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কলম্বিয়া, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং কানাডার প্রতি দল পেয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৮৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা)। শেষ ৩২ দল হিসেবে ঘানা, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কেপ ভার্দে, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সেনেগাল, ডিআর কঙ্গো, ইকুয়েডর, সুইডেন, আইভরি কোস্ট, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিটি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৩৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা)। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া উরুগুয়ে, স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, উজবেকিস্তান, ইরাক, সৌদি আরব, কুরাসাও, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, পানামা, জর্ডান, তিউনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড, হাইতি ও তুরস্কের প্রতি দল পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা)।

খেলোয়াড় ও দলগুলোর পারফরম্যান্স নির্ভর এই প্রাইজমানিতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৭০ কোটি ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৮,৬২২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা)। এর বাইরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের খরচ ও বাড়তি আর্থিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাকি ১৬ কোটি ৮ লাখ ডলার (প্রায় ১,৯৮০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা) ফিফা সমানভাবে বণ্টন করে দিয়েছে, যা টুর্নামেন্টে তারা যে স্থানেই শেষ করুক না কেন সবাই পাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin