Facebook Twitter Instagram YouTube

তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় ১১ ঘর ও ৫০ একর জমি নদীগর্ভে


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ /
তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় ১১ ঘর ও ৫০ একর জমি নদীগর্ভে

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়িসহ অন্তত ৫০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পুরো নোহালী গ্রামজুড়ে নদীভাঙনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ির টিন, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া নদীতীরবর্তী আরও শতাধিক পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী জানান, নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর বারবার যোগাযোগ করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের অবহেলার কারণেই বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, যাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে, তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অন্য কোথাও ঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গা না থাকায় তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, নদীভাঙন এখনো অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের আরও শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে। এত ক্ষয়ক্ষতির পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন。

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে গুরুত্বসহকারে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম রক্ষা করা কঠিন হবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে চার হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কাজের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh