Facebook Twitter Instagram YouTube

ব্রণ সারাতে টুথপেস্টের ব্যবহার কি কার্যকর, নাকি ক্ষতিকর?


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ /
ব্রণ সারাতে টুথপেস্টের ব্যবহার কি কার্যকর, নাকি ক্ষতিকর?

মুখের ত্বকে হঠাৎ একটি ব্রণের উপস্থিতি অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বা মিটিংয়ের আগে। ইন্টারনেটে বা পরিচিত মহলে ব্রণের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে রাতারাতি তা দূর করার পরামর্শ বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং ত্বকের জন্য একটি ক্ষতিকর ভুল ধারণা।

টুথপেস্ট ব্যবহারের এই কৌশলটি কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। এর মূল কারণ হলো, টুথপেস্টে থাকা হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বেকিং সোডা, অ্যালকোহল এবং মেনথলের মতো উপাদানগুলো ত্বককে দ্রুত শুকিয়ে ফেলে। ব্যবহারের পর ব্রণের লালচে ভাব বা ফোলাভাব সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় অনেকে একে নিরাময় বলে ভুল করেন। ২০১৪ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, টুথপেস্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে পারলেও, এটি সব ধরনের ব্রণের জন্য কার্যকর নয়। বরং এতে থাকা ব্লিচিং উপাদান ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট মূলত দাঁতের এনামেল পরিষ্কার করার জন্য তৈরি, মুখের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নয়। এর নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের বেশ কিছু ক্ষতি হতে পারে। প্রথমত, টুথপেস্ট ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে তাকে অতিরিক্ত শুষ্ক করে তোলে। দ্বিতীয়ত, এর কড়া রাসায়নিক উপাদান ত্বককে পুড়িয়ে দিতে পারে, যা থেকে তীব্র জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব তৈরি হয়। তৃতীয়ত, ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে শরীর থেকে আরও বেশি তেল বা সেবাম নিঃসৃত হয়, যা নতুন করে ব্রণ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে। এছাড়া, ভুলভাবে টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের জায়গায় স্থায়ী কালচে দাগ বা পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্রণ নিরাময়ে টুথপেস্টকে কোনো নিরাপদ বা কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy